জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত ভোজ্যতেল, মাংস ও খাদ্যশস্যের দাম বাড়ায় সামগ্রিক খাদ্যমূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে এ সময় পনির ও চিনির দাম কিছুটা কমেছে। খবর রয়টার্স।
এফএও প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যগুলোর দাম পর্যবেক্ষণ করে একটি মূল্যসূচক তৈরি করে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১২৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট, যা জানুয়ারিতে ছিল ১২৪ দশমিক ২ পয়েন্ট। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে সূচকটি বেড়েছে। তবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের এ গড় দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম। এছাড়া ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। সে সময়ের তুলনায় এখনকার দাম প্রায় ২২ শতাংশ কম।
বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের গড় মূল্যসূচক গত মাসে আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে গমের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বৈরী আবহাওয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার ভেতরে পণ্য পরিবহনে সমস্যা এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের অস্থিরতা গমের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। অবশ্য গমের এ দাম গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এখনো ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে বাসমতী ও জাপোনিকা চালের ব্যাপক চাহিদার কারণে চালের দামও দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্বব্যাপী ভোজ্যতেলের দাম ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এ সময় পণ্যটির মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এটি ২০২২ সালের জুনের পর ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপাদন কম হওয়ায় এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জৈব জ্বালানি (বায়োফুয়েল) খাতে সরকারি সহায়তার আশায় সয়াবিন তেলের দামও চড়া ছিল।
মাংসের দাম গত মাসে জানুয়ারির তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ভেড়ার মাংসের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে গরুর মাংসের ব্যাপক চাহিদার কারণেও এ খাতে দাম বেড়েছে।
তবে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম গত মাসে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে পনিরের দাম কমে যাওয়া এর প্রধান কারণ। অবশ্য গুঁড়া দুধ ও মাখনের চাহিদা বেশি থাকায় এগুলোর দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে চিনির বাজারে বেশ স্বস্তি দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উৎপাদনের খবরে গত মাসে চিনির দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এটি ২০২০ সালের অক্টোবরের পর চিনির সর্বনিম্ন দাম।
পৃথক এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড ৩০২ কোটি ৯০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হতে পারে। এটি আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। মূলত ভুট্টা ও চালের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের মজুদও পর্যাপ্ত থাকবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।